Friday, June 17, 2011

অস্তিত্বহীনতা

অলস দুপুর পেরিয়ে যায়,

দৃষ্টিহীন সন্ধ্যার সন্ধানে।

সে যাত্রা অবধারিত। সংজ্ঞায়িত।

নীল সমুদ্রের অসীম জলরাশি,

তার মাঝে হারিয়ে যায়

আকাশ থেকে ছুটে পড়া তারাটি।

যার খবর কেউ রাখেনা,

তার জন্যে থামেনা সাগরের ঢেউ।

অন্ধকারের নির্বিরোধ ডাকে,

সাড়া দিয়েছিল যে মুহূর্তগুলো

সবাই হারিয়ে গিয়েছে মহাকালে।

সেই সময়গুলোর মিথ্যে সাক্ষীতে,

নীরবেই মনে শ্যাওলা জমেছে।

বিলীন হওয়া দুপুর আর তারাগুলোর

মতো আমিও আজ অনেকটা অস্তিত্বহীন।

অলৌকিক ভাবনা

এখানে এখন রাত্রি নামে

সব কল্পনার পায়ে শিকল বেঁধে।

মানুষের ঢেউ আছড়ে পড়ে

বোবা অনুভূতিগুলোর দেয়াল জুড়ে।

আর আমি অশরীরী হয়ে,

নিজের ছায়া খুঁজে বেড়াই।

সময়ের মিথ্যে প্রতিজ্ঞা আর বিবর্ণ বাস্তবতা

আমার শৈশব-নদীর হারানো স্রোতের ক্রন্দনকে

আরো তীব্র করে তোলে।

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা নিঃস্ব হয়ে হেঁটে বেড়ায়,

তার পদচিহ্ন ছুঁয়ে ছন্দ হারিয়েছে এইসব কাব্য।

আর অবচেতন মন জন্ম দিয়ে যায় কিছু কিছু ভাবনার,

লৌকিকতা হারানো তাই অযৌক্তিক কিছু নয়।

প্রতীক্ষা

প্রতীক্ষায় আছি তাই,

এখনো পথ চলি।

বাউন্ডুলে আর ভবঘুরে হয়ে,

এই শহরের রাজপথ, অচেনা গলিতে।

প্রতীক্ষায় আছি সেই বৃষ্টির-

যে ধুয়ে মুছে দেবে মনের কুৎসিত দাগগুলো,

আর তোমার বোবা কান্না হয়ে

কারণে-অকারণেই ঝরবে না।

প্রতীক্ষায় আছি সেই সূর্যের-

যার আলোর তীব্রতায় অসহায় হবে

মিথ্যে আর অপরাধগুলো,

আলোকিত করে দেবে এই মানুষদের।

প্রতীক্ষায় আছি সেই তোমার-

যে তুমি হারার আগেই হার মানবে না,

জীবনের দোহাই দিয়ে প্রতিদিন মৃত হবে না।

প্রতীক্ষায় আছি তাই-

অদেখা অচেনা অযাচিত ভাবনায়।

Monday, April 11, 2011

নিয়তির রহস্য

নিয়তির অস্তিত্ব কোথায়?

যেখানে স্বপ্ন হারায়?

না প্রতিদিনের বাস্তবতায়?

কেন বারবার বাঁধা পড়ে যাই এ ধাঁধায়?

অবাধ্য আবেগগুলোর বিস্তৃত বিদ্রোহ

তোলপাড় করে দেয় ভাবনার রাজ্য।

তাতে নিয়তির আসন টলে না একটুও।

তারপর মিথ্যে জোছনার মায়ায় স্বপ্নের গ্রহে সন্ধ্যা নামে,

কালো মেঘে ঢেকে থাকে অচেনা আকাশ।

ক্রমশ আমাকে গ্রাস করে তার অস্তিত্ব,

নেশার মতো আস্তে আস্তে ক্ষয় করে দেয়

আমাকে,তোমাকে,সবকিছুকে।

কোনটা নিয়তি আর কোনটা ব্যর্থতা?

কেন অবিরত এই ক্ষয়ে যাওয়া?

যেখানে স্বপ্নের শেষ

সেখানেই কি নিয়তির শুরু?

Tuesday, April 5, 2011

বৃষ্টির জন্যে

একলা আমি হেঁটে বেড়াই রাজপথে,

বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয় আমায় আনমনে।

মনে পড়ে সেই শৈশব আর কৈশোর,

এখন নিজেকে কেবল মনে হয় শুকনো বালুচর।

হাঁটুপানি পাড়ি দিয়ে যেতাম স্কুলে,

লেখাপড়া সব হারিয়ে যেত মনের সুখে।

বৃষ্টিভেজা মাঠে ফুটবল সকাল-বিকাল,

এখন বৃষ্টি আর মাঠ-দুইয়ের-ই বড় আকাল।

আজকের বৃষ্টি নয় আর আনন্দের,

টেনশন হয় কেবলই স্যুট-বুট আর মোবাইলের।

বদলে গেছে জীবন ভীষণ,

এখন মনের বৃষ্টি হয় কারণ-অকারণ।

তবুও সান্ত্বনা,

প্রিয় বৃষ্টি, তোমায় ছাড়া দিন তো কাটাতে হচ্ছে না!

অর্থহীন ভাবনা

হারিয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতি,

কিছু থমকে থাকা দৃশ্যপট।

কাল্পনিক ভাবনাগুলো দরজা ঘেঁষে দাঁড়ায়,

আর ক্রমশঃ ক্রন্দনরত অবাস্তব বাস্তবতা

বারবার জানান দেয় তার আর্তনাদ।

ঝাপসা চোখে দেখা যায় না কিছুই।

না হওয়ার না পাওয়ার গল্পে,

নিয়ত যুক্ত হয় নতুন নতুন অংশ।

জানি অতীতকে ফেরানো যায় না,

বর্তমানকে ধরে রাখা হয় অসম্ভব,

আর ভবিষ্যৎ? সে তো আরও ভ্রান্ত ভাবনা।

তবু থামে না এ জীবন,

থামে না এ পথ চলা।

সাথে বাড়তে থাকে জটিলতা।

বড় বেমানান তার সাথে এ কবিতা,

যেমন বেমানান ছিল তোমার অস্তিত্ব,

আর তোমার বুলিভরা সস্তা প্রতিশ্রুতির সমাবেশ।

Thursday, March 31, 2011

বৃষ্টির শহরে আমি এবং আমরা

রাতভর চলছে বৃষ্টির উৎসব,

যেন শহরের কলুষতা সে ধুয়ে দিতে চায়।

নিয়ন আলোর মায়ায় বন্দী ঐ জোছনা,

ঠিক আমার জানালায় এসে দাঁড়ায়।

ধূসর ধুলো জমে ছিল সেখানে,

আর ঘুণে ধরা স্মৃতির পাতা।

ছায়াগুলো বাড়তে থাকে,

বাড়তে থাকে আমার নিঃসঙ্গতা...

ভেসে আসে বৃষ্টির একঘেয়েমি গান।

দেখতে দেখতে স্বপ্নগুলোর শবযাত্রায় ভিড় জমে যায়,

ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়ায় তারা।

জীর্ণ আমাকে যেন

ক্রমশ আরও ঠেলে নিয়ে যায় ভ্রান্ত পথে।

স্তব্দ আমি ক্লান্তিহীনতায় এগুতে থাকি

অবিরত...