Monday, April 11, 2011

নিয়তির রহস্য

নিয়তির অস্তিত্ব কোথায়?

যেখানে স্বপ্ন হারায়?

না প্রতিদিনের বাস্তবতায়?

কেন বারবার বাঁধা পড়ে যাই এ ধাঁধায়?

অবাধ্য আবেগগুলোর বিস্তৃত বিদ্রোহ

তোলপাড় করে দেয় ভাবনার রাজ্য।

তাতে নিয়তির আসন টলে না একটুও।

তারপর মিথ্যে জোছনার মায়ায় স্বপ্নের গ্রহে সন্ধ্যা নামে,

কালো মেঘে ঢেকে থাকে অচেনা আকাশ।

ক্রমশ আমাকে গ্রাস করে তার অস্তিত্ব,

নেশার মতো আস্তে আস্তে ক্ষয় করে দেয়

আমাকে,তোমাকে,সবকিছুকে।

কোনটা নিয়তি আর কোনটা ব্যর্থতা?

কেন অবিরত এই ক্ষয়ে যাওয়া?

যেখানে স্বপ্নের শেষ

সেখানেই কি নিয়তির শুরু?

Tuesday, April 5, 2011

বৃষ্টির জন্যে

একলা আমি হেঁটে বেড়াই রাজপথে,

বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয় আমায় আনমনে।

মনে পড়ে সেই শৈশব আর কৈশোর,

এখন নিজেকে কেবল মনে হয় শুকনো বালুচর।

হাঁটুপানি পাড়ি দিয়ে যেতাম স্কুলে,

লেখাপড়া সব হারিয়ে যেত মনের সুখে।

বৃষ্টিভেজা মাঠে ফুটবল সকাল-বিকাল,

এখন বৃষ্টি আর মাঠ-দুইয়ের-ই বড় আকাল।

আজকের বৃষ্টি নয় আর আনন্দের,

টেনশন হয় কেবলই স্যুট-বুট আর মোবাইলের।

বদলে গেছে জীবন ভীষণ,

এখন মনের বৃষ্টি হয় কারণ-অকারণ।

তবুও সান্ত্বনা,

প্রিয় বৃষ্টি, তোমায় ছাড়া দিন তো কাটাতে হচ্ছে না!

অর্থহীন ভাবনা

হারিয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতি,

কিছু থমকে থাকা দৃশ্যপট।

কাল্পনিক ভাবনাগুলো দরজা ঘেঁষে দাঁড়ায়,

আর ক্রমশঃ ক্রন্দনরত অবাস্তব বাস্তবতা

বারবার জানান দেয় তার আর্তনাদ।

ঝাপসা চোখে দেখা যায় না কিছুই।

না হওয়ার না পাওয়ার গল্পে,

নিয়ত যুক্ত হয় নতুন নতুন অংশ।

জানি অতীতকে ফেরানো যায় না,

বর্তমানকে ধরে রাখা হয় অসম্ভব,

আর ভবিষ্যৎ? সে তো আরও ভ্রান্ত ভাবনা।

তবু থামে না এ জীবন,

থামে না এ পথ চলা।

সাথে বাড়তে থাকে জটিলতা।

বড় বেমানান তার সাথে এ কবিতা,

যেমন বেমানান ছিল তোমার অস্তিত্ব,

আর তোমার বুলিভরা সস্তা প্রতিশ্রুতির সমাবেশ।

Thursday, March 31, 2011

বৃষ্টির শহরে আমি এবং আমরা

রাতভর চলছে বৃষ্টির উৎসব,

যেন শহরের কলুষতা সে ধুয়ে দিতে চায়।

নিয়ন আলোর মায়ায় বন্দী ঐ জোছনা,

ঠিক আমার জানালায় এসে দাঁড়ায়।

ধূসর ধুলো জমে ছিল সেখানে,

আর ঘুণে ধরা স্মৃতির পাতা।

ছায়াগুলো বাড়তে থাকে,

বাড়তে থাকে আমার নিঃসঙ্গতা...

ভেসে আসে বৃষ্টির একঘেয়েমি গান।

দেখতে দেখতে স্বপ্নগুলোর শবযাত্রায় ভিড় জমে যায়,

ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়ায় তারা।

জীর্ণ আমাকে যেন

ক্রমশ আরও ঠেলে নিয়ে যায় ভ্রান্ত পথে।

স্তব্দ আমি ক্লান্তিহীনতায় এগুতে থাকি

অবিরত...

Saturday, March 26, 2011

ভালবাসার সংলাপ

তুমি আছো বলেই আমি ভুলেছি আমাকে,

জেনেছি গভীরতম দুঃখও মাঝে মাঝে

কারো হাসিতে হারিয়ে যেতে পারে।

ঠিক যেমন বিদীর্ণ মরুর বুকে জন্ম নেয় ছায়াবৃক্ষ।

কল্পনার বিস্ময়তা ভীরু চোখে তাকায়

আমার বাস্তবতাকে,

তোমার স্পর্শে যেন লাল গোলাপটিও জেগে উঠে,

জেগে উঠে কবিতার শব্দগুলো।

নীরব চাহনি যে এত কিছু বলে,

তাও তোমার জন্যই যেনেছি।

অনেক কিছু জেনেও,

যেন নির্বোধ হয়ে থাকি তোমার কাছে।

এক মুহূর্তে আমি ক্লান্তিহীন আনন্দে,

ঠিক পরের মুহূর্তে বিষাদের রাজ্যে।

চলতে থাকে এ রাজ্য বদল,

চলতে থাকে তোমার হেঁয়ালি ভালবাসা।

যুদ্ধ চাই

শান্তি চাই মোরা,

শান্তিপ্রিয় মানুষ।

ট্যাঙ্ক আর ফ্রিগেটের তুমুল আয়োজনে

শান্তি ছড়িয়ে দিই এ ধরায়।

আমাদের বুলেট খতম করে ইচ্ছেমত

কিছু তথাকথিত সন্ত্রাসী কিছু বিপ্লবী।

আর তার আড়ালে ঝরে যায়

হাজার হাজার নিরীহ প্রাণ।

কে ভাবে তাদের নিয়ে?

হয়তো কিশোরটি রাস্তায় গিয়েছিল

অসুস্থ মায়ের ওষুধ নিতে,

ছোট্ট শিশুটি ছিল বাবার কোলে,

নির্বোধ বোমা কিইবা বুঝবে তার?

যেখানে চরম সভ্য হয়েও আমরা বুঝতে চাই না।

কি চাই আমরা?

শান্তির নামে জ্বালানী?

কবে থামবে এ প্রহসন?

শান্তির নামে এ কি অশান্তির মেলা?

সরকার-বিদ্রোহী এত কঠিন কঠিন শব্দ আমি বুঝি না,

আমি একটাই যুদ্ধ বুঝি...

যে যুদ্ধ হবে সত্যের,

যে যুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদীদের পরাজয়ে

হবে মানবতার জয়।

Tuesday, March 15, 2011

জীবন-গণিত

কি চেয়েছ তুমি আর কি পেয়েছ?

অসমতার সমীকরণে ঘুরপাক কি খেয়েছ?

একটাই ধ্রুব এ সমীকরণে,

এমনকি তুমিও থাক চলকের বেশে!

গোলকধাঁধা নাকি সরল ভ্রমন?

এই ভেবে

ক্যালকুলাসের মাথা ঘুরে যায়,

মেকানিক্স করে আত্মসমর্পণ।

প্রেমিকার চোখে লেগে থাকা

কিছু রহস্যময়তা!!

বামপক্ষ ডানপক্ষের

অনর্থক বাকবিতণ্ডা।

মনে করি’র স্বাধীনতায়,

নাটাই ছেঁড়া রঙিন ঘুড়ি উড়ে যায়।

সহজ নয় এ জীবনের সরল সমীকরণ,

bodmas সূত্র-ও অবাক তাকিয়ে রয়।