Friday, June 17, 2011

নির্বোধ আনন্দ

তবুও কিছু সূর্যালোক বেঁচে থাকে,

আঁধারের চোখ রাঙ্গানিতে।

গভীর অমাবস্যার রাতে,

কিছু জোনাকি ঠিকই আলো জ্বালে।

চারপাশে যখন রক্তের উৎসব, হিংসার ভাষায় চলে কথোপকথন,

কিছু মানুষ তবুও গায় মানবতার গান।

কারণ রোদমাখা দিনের যেমন শেষ আছে,

তেমনি সূর্যও আসে অমাবস্যার আকাশ ফুঁড়ে।

তাই শত হতাশার মাঝেও আশা খুঁজে বেড়াই,

চাই না আর অজানা আগামীর দোহাই।

অন্তত আজকে আমি খুশি থাকতে চাই!

মা

বাসায় ফিরছিলাম অফিস থেকে,বেশ কিছুদিন আগে। জ্যামের কারণে ফিরতে দেরি হয়েছিল। প্রতিদিনের মতো রিক্সায় উঠলাম। কিছুদুর যাওয়ার পর রিক্সাওয়ালা বললো স্যার আপনি কি ডাক্তার? না বলার পর আবার জিজ্ঞেস করল পরিচিত বড় ডাক্তার আছে কি না। এবারো না উত্তর পেয়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকল। বাসার কাছে এসে নেমে পরলাম রিক্সা থেকে। ভাড়া দেয়ার পর সে আবার মুখ খুললো, একটু সাহায্য করবেন আমাকে? কি সাহায্য জানতে চাইলাম। সে বলতে থাকল যে তার মা কাল রাতে স্ট্রোক করেছে, অবস্থা খুব খারাপ। মায়ের একমাত্র সহায় সে। ডাক্তার জানিয়েছে কিছু টেস্ট করতে হবে যেগুলো অনেক ব্যয়বহুল। সে কিছু টাকা জোগাড় করেছে এরমাঝে। এখন বাকি টাকার জন্যে মায়ের চিকিৎসা বন্ধ। আমার কাছে সাহায্য চাইলো এই বলে। তার চোখে ছিল কান্নার ঢল। আমি কিছু টাকা দিয়ে চলে আসলাম।

গতকাল রাতের কথা, আবারো সেই একইভাবে ফিরছিলাম। রিক্সাওয়ালা জিজ্ঞেস করলো স্যার কি চাকরি করেন নাকি ছাত্র? চাকরির কথা বলার পর আবার সে বলতে থাকলো। একটু অন্যমনস্ক ছিলাম, হঠাৎ খেয়াল করলাম সে বলছে তার মায়ের জন্য কিছু টাকা দরকার, কাল রাতে মা স্ট্রোক করেছে। ঠিক সেইদিনের কথাগুলো। আমি বোবা হয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ।

কিছুদিন আগে মা-দিবস গেল, মা-কে ভালবাসতেও নাকি দিন লাগে এখন! দেখলাম বিভিন্ন অফার, আবেগময় বিজ্ঞাপন। কেউ কতটা নিচে নামলে অথবা কতটা অভাবে নিজের মা-কে নিয়ে ব্যবসা করতে পারে তা আমার জানা নেই। আমরা আর কত নিজেদের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি দাবি করে যাবো তাও জানা নেই আমার।

অস্তিত্বহীনতা

অলস দুপুর পেরিয়ে যায়,

দৃষ্টিহীন সন্ধ্যার সন্ধানে

সে যাত্রা অবধারিত। সংজ্ঞায়িত।

নীল সমুদ্রের অসীম জলরাশি,

তার মাঝে হারিয়ে যায়

আকাশ থেকে ছুটে পড়া তারাটি

যার খবর কেউ রাখেনা,

তার জন্যে থামেনা সাগরের ঢেউ।

অন্ধকারের নির্বিরোধ ডাকে,

সাড়া দিয়েছিল যে মুহূর্তগুলো

সবাই হারিয়ে গিয়েছে মহাকালে

সেই সময়গুলোর মিথ্যে সাক্ষীতে,

নীরবেই মনে শ্যাওলা জমেছে

বিলীন হওয়া দুপুর আর তারাগুলোর

মতো আমিও আজ অনেকটা অস্তিত্বহীন

অলৌকিক ভাবনা

এখানে এখন রাত্রি নামে

সব কল্পনার পায়ে শিকল বেঁধে।

মানুষের ঢেউ আছড়ে পড়ে

বোবা অনুভূতিগুলোর দেয়াল জুড়ে।

আর আমি অশরীরী হয়ে,

নিজের ছায়া খুঁজে বেড়াই।

সময়ের মিথ্যে প্রতিজ্ঞা আর বিবর্ণ বাস্তবতা

আমার শৈশব-নদীর হারানো স্রোতের ক্রন্দনকে

আরো তীব্র করে তোলে।

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা নিঃস্ব হয়ে হেঁটে বেড়ায়,

তার পদচিহ্ন ছুঁয়ে ছন্দ হারিয়েছে এইসব কাব্য।

আর অবচেতন মন জন্ম দিয়ে যায় কিছু কিছু ভাবনার,

লৌকিকতা হারানো তাই অযৌক্তিক কিছু নয়।

প্রতীক্ষা

প্রতীক্ষায় আছি তাই,

এখনো পথ চলি।

বাউন্ডুলে আর ভবঘুরে হয়ে,

এই শহরের রাজপথ, অচেনা গলিতে।

প্রতীক্ষায় আছি সেই বৃষ্টির-

যে ধুয়ে মুছে দেবে মনের কুৎসিত দাগগুলো,

আর তোমার বোবা কান্না হয়ে

কারণে-অকারণেই ঝরবে না।

প্রতীক্ষায় আছি সেই সূর্যের-

যার আলোর তীব্রতায় অসহায় হবে

মিথ্যে আর অপরাধগুলো,

আলোকিত করে দেবে এই মানুষদের।

প্রতীক্ষায় আছি সেই তোমার-

যে তুমি হারার আগেই হার মানবে না,

জীবনের দোহাই দিয়ে প্রতিদিন মৃত হবে না।

প্রতীক্ষায় আছি তাই-

অদেখা অচেনা অযাচিত ভাবনায়।